বাংলাদেশের কাছে টানা দুই হার, অজিদের দর্পচূর্ণ

বাংলাদেশের কাছে টানা দুই হার, অজিদের দর্পচূর্ণ

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টি-টোয়েন্টিতে টানা দ্বিতীয় জয়ের স্বাদ পায় বাংলাদেশ। মাত্র ১ দিন আগে প্রথম জয়ের পর দ্বিতীয় খেলায়ও সহজ জয় তুলে নেয় টাইগাররা। এরফলে দলের সাথে সাথে পুরো দেশ উচ্ছ্বাস ও আনন্দ প্রকশ করে।

বাংলাদেশ ব্যাটে-বলের অসাধারণ নৈপুণ্য দেখিয়ে সিরিজের দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে অস্ট্রেলিয়াকে উড়িয়ে দিল। এর মাধ্যমে পাঁচ ম্যাচের সিরিজে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল বাংলাদেশ। যদি আগামী শুক্রবার বাংলাদেশ সিরিজের তৃতীয় টি-টোয়েন্টি জিতে তাহলে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথমবারের মতো সিরিজ জয়ের ইতিহাস গড়বে বাংলাদেশ।

বুধবার (৪ আগস্ট) টি-টুয়েন্টি খেলায় অস্ট্রেলিয়ানদের দেওয়া ১২২ রানের ছোট লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই জোড়া ধাক্কা খায় বাংলাদেশ। সাকিব আল হাসান লড়াই করার আভাস দিয়েও শেষ করতে পারলেন না। দলের অভিজ্ঞদের বিদায়ে এক পর্যায়ে মনে হয়েছিল বাংলাদেশের ম্যাচ হাতছাড়া হয়ে যেতে পারে। তবে শেষ পর্যন্ত কোনো অঘটন হয়নি। তরুণ ক্রিকেটার আফিফ-সোহানের দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে সিরিজের দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে অস্ট্রেলিয়াকে ৫ উইকেটে হারিয়েছে মাহমুদউল্লাহর দল।

রাজধানীর মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে অস্ট্রেলিয়া টস জিতে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৭ উইকেটে ১২১ রান করে। এর জবাব দিতে নেমে বাংলাদেশ ১৮.৪ ওভারেই অনায়াসে জয় তুলে নেয়।

রান তাড়া তাড়া করতে নেমে শুরুতেই হোঁচট খায় বাংলাদেশ। সৌম্য সরকার এই ম্যাচেও হতাশ করেন দলকে । সৌম্য ইনিংসের তৃতীয় ওভারে মিচেল স্টার্কের বল মোকাবিলা করতে গিয়ে দাঁড়িয়ে ক্রস ব্যাটে খেলার চেষ্টা করেন। বলটি ঠিকঠাক পারলেন না খেলতে। ফলে বল চলে যায় স্টাম্পে, বোল্ড হয়ে ফেরেন সৌম্য। মাত্র দুই বল মোকাবিলা করা সৌম্য রানের খাতাই খুলতে পারেননি।

ওপেনার তরুণ ক্রিকেটার নাঈম শেখও স্টাম্পে আসা সোজা বল মোকাবিলা করতে গিয়ে আউট হন। নাঈম হেইজেলউডের বল জায়গায় দাঁড়িয়ে লেগে খেলার চেষ্টা করেন, বল চলে যায় সোজা স্টাম্পে, আর তিনি আউট হয়ে ফেরেন ৯ রানে।

বাংলাদেশ ২১ রানেই দুই ওপেনারকে হারিয়ে কিছুটা চাপে পড়ে যায়। সেখান থেকে হাল ধরেন অভিজ্ঞতায় পরিপূর্ণ সিনিয়র ক্রিকেটর সাকিব আল হাসান। মেহেদী হাসানকে নিয়ে তৃতীয় উইকেটে ৩৭ রানের জুটি গড়েন তিনি। থিতু হওয়া এই জুটি ভেঙে অস্ট্রেলিয়াকে খেলায় ফেরান অ্যান্ড্রু টাই। অসি তারকার বল এগিয়ে খেলতে চেয়েছিলেন সাকিব। কিন্তু ব্যাটে লাগাতে পারলেন না। বল চলে যায় স্টাম্পে, ভাঙে তৃতীয় জুটি। ১৭ বলে ২৬ রান করেন সাকিব।

সাকিব আল হাসান এর সঙ্গে জুটি গড়া মেহেদী জীবন পেয়েও থিতু হতে পারলেন না, অসি লেগ স্পিনার অ্যাডাম জাম্পার বল খেলতে গিয়ে লাইন মিস করে বোল্ড হন তিনি। ৬৭ রানে পঞ্চম উইকেট হারায় বাংলাদেশ। মেহেদী ফেরেন ২৪ বলে ২৩ রান করে।

বাংলাদেশ ৫ উইকেট হারানোর পর চাপে পড়ে যায়। খেলার এক পর্যায়ে মনে হয়, হাতছাড়া হয়ে যাবে ম্যাচ। কিন্তু সেখান থেকে দলকে উদ্ধার করেন আফিফ হোসেন। নুরুল হাসান সোহানকে নিয়ে চাপ কাটিয়ে উঠে বাংলাদেশকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন আফিফ। ম্যাচ শেষে ৩৭ রানে অপরাজিত থাকেন আফিফ। সোহান অপরাজিত ছিলেন ২২ রানে।

অসিরা এর আগে ব্যাটিংয়ে নেমে সাবধানী শুরু করে। প্রথম ম্যাচের মতো এই ম্যাচেও মেহেদী হাসানকে দিয়ে বোলিং ওপেন করান বাংলাদেশ অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ। গত ম্যাচে প্রথম বলের মতো উইকেট এনে না দিতে পারলেও প্রথম ওভারে মেহেদী দেন মাত্র এক রান। দ্বিতীয় ওভারে আসেন নাসুম আহমেদ। তাকে অবশ্য মেরে খেলেন অসি ব্যাটসম্যানরা। দুই বাউন্ডার মারেন অ্যালেক্স ক্যারি। নাসুমের ওই ওভারে অসিরা নেয় ১০ রান।

তার পরপরই মেহেদী হাসান তৃতীয় ওভারে বোলিং এ এসে বাংলাদেশকে প্রথম সাফল্য এনে দেন। তিনি ফিরিয়ে দেন ক্যারিকে। দলের এই তরুণ স্পিনারের অফ স্টাস্পের বাইরে ফুল লেংথ বল লেগে টেনে খেলতে চেয়েছিলেন কেয়ারি, কিন্তু ঠিক মতো পারেননি। তার ব্যাটের কানায় লেগে বল মিড অনে ক্যাচ ওঠে যায়। আর সেখানে থাকা নাসুম মুঠোয় জমান ক্যারির ক্যাচ। ক্যারি ১১ বলে ১১ রান করে ফেরেন।

অস্ট্রেলিয়া পরে ষষ্ঠ ওভারে তাদের আরেক ওপেনার জশ ফিলিপিকে হারায়। ওপেনার ফিলিপিকে বোল্ড করে বাংলাদেশকে দ্বিতীয় সাফল্য এনে দেন মুস্তাফিজ। বাহাতি পেসারের শর্ট অব লেংথ ডেলিভারি সরে গিয়ে লেগে খেলতে চেয়েছিলেন ডানহাতি ব্যাটসম্যান। টাইমিং ঠিক হয়নি। বল ফাঁকি দিয়ে চলে যায় স্টাম্পে। এক চারে ১৪ বলে ১০ রান করেন ফিলিপি।

দুই উইকেট হারানো অস্ট্রেলিয়া পাওয়ার প্লেতে বেশি রান তুলতে পারেনি। পাওয়ার প্লেতে ছয় ওভারে ৩২ রান করে অতিথিরা। এর মধ্যে ২০ বলই হয় ডট। দুই উইকেট হারানোর পর অস্ট্রেলিয়াকে এগিয়ে নেন মিচেল মার্শ ও হেনরিকস। ওই উইকেটে অনেকটা খোলস থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করে অসিরা।

মিচেল মার্শ ও হেনরিকস তৃতীয় উইকেট জুটিতে দলের পক্ষে প্রতিরোধ গড়ে তুলেন। এই দুজন মিলে গড়েন মোট ৫৭ রানের জুটি গড়েন। অবশেষে ১৫তম ওভারে হেনরিকসকে ফিরিয়ে শক্ত জুটি ভাঙেন সাকিব আল হাসান। ৩০ রানে সাকিবের বলে বোল্ড হয়ে ফেরেন হেনরিকস। হেনরিকস ফেরার পর টিকলেন না মার্শ। ১৬.১ ওভারে মার্শকে ফিরিয়ে স্বস্তি এনে দেন শরিফুল ইসলাম। ৪২ বলে ৪৫ রানে ফিরেন যান মার্শ।

পেসার মুস্তাফিজুর রহমান খেলার শেষের দিকে চমক দেখান। অসি অধিনায়ক ও অ্যাশটন অ্যাগারকে তুলে নেন তিনি। টিম অস্ট্রেলিয়া মুস্তাফিজ-শরিফুলের দারুণ বোলিংয়ে ৮ রানের মাথায় চারটি উইকেট হারায়। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে শেষ পর্যন্ত ১২২ রানে থামে অস্ট্রেলিয়া।

আগের ম্যাচের নাসুম বল হাতে এবার সফল হতে পারেননি। তিনি ২৯ রান দিয়ে উইকেটহীন ছিলেন। মুস্তাফিজুর রহমান সর্বোচ্চ উইকেট নিয়েছেন। তিনি ২৩ রানে তিনটি উইকেট নিয়েছেন। আর দুটি উইকেট নিয়েছেন শরিফুল। সাকিব আল হাসান ও মেহেদী হাসান নিয়েছেন একটি করে উইকেট।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Contact Us