পরীমণি দুবাই গিয়ে টানা সাত দিন বুর্জ আল খলিফার হোটেলে ছিলেন 

পরীমণি দুবাই গিয়ে টানা সাত দিন বুর্জ আল খলিফার হোটেলে ছিলেন 

চিত্রনায়িকা পরীমণি সময়ের আলোচিত এক নাম। পরীমণির বাসায় বুধবার বিকেলে অভিযান চালিয়ে মাদকসহ আটক করে র‍্যাব। বর্তমানে এই নায়িকা পুলিশের কাছে ৪ দিনের রিমান্ডে আছে। আটকের পর থেকে পরীমণি সম্পর্কে ফাঁস হচ্ছে একের পর এক গোপন তথ্য।

গ্রেপ্তার চিত্রনায়িকা পরীমণি প্রমোদ ভ্রমণে প্রায়ই বিদেশ যেতেন। তার সফরসঙ্গী হতেন দেশের প্রভাবশালী ব্যবসায়ী, ব্যাংকের শীর্ষ কর্মকর্তা কিংবা ক্ষমতাসীন দলের অনেক নেতা।

চিত্রনায়িকা পরীমণি গত এপ্রিল মাসেও সবশেষ দেশের এক শীর্ষ ব্যবসায়ী ও একটি ব্যাংকের চেয়ারম্যানের সঙ্গে দুবাই ট্যুরে যান। অবস্থান করেন দুবাইয়ের সবচেয়ে অভিজাত ‘বুর্জ আল খলিফা’ টাওয়ারের হোটেল আরমানিতে। টানা সাত দিন অভিজাত হোটেলে ‘অ্যাম্বাসেডর স্যুটে’ অবস্থান করেন।

বুর্জ আল খলিফার এই অ্যাম্বাসেডর স্যুটের ভাড়া হিসেবে একেকটা স্যুটের জন্য প্রতিদিন গুনতেন এক লাখ ৫৮ হাজার টাকা। গত ২৩ এপ্রিল থেকে দুবাইয়ের সেই ট্যুরে পরীর সঙ্গে ছিলেন তার ব্যক্তিগত সহকারী আশরাফুল ইসলাম ওরফে দিপু। দুজনই ছিলেন আলাদা স্যুট-এ। তার এমন প্রমোদ ট্যুরের তথ্য এখন গোয়েন্দারাদের হাতে।

গোয়েন্দা সূত্র জানায়, যারা চিত্রনায়িকা পরী এবং মডেল মাহবুব ফারিয়া পিয়াসাকে নিয়ে বিভিন্ন সময় প্রমোদ ট্যুরে গিয়েছেন, তাদের তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। গতকাল পর্যন্ত ১০ জনের ব্যাপারে নিশ্চিত হয়েছেন গোয়েন্দারা। তাদের ব্যাপারে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যরা।

আইন প্রয়োগকারীর সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, পরী সিন্ডিকেট রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় পার্টির নামে সেক্স ও মাদকের আসর বসাতেন। পার্টির এক পর্যায়ে তারা টার্গেট করা ব্যক্তিদের কাছে পাঠিয়ে দিতেন সুন্দরী রমণীদের। এই সুন্দরীদের নিয়ে আলাদা কক্ষে একান্তে সময় কাটানোর বন্দোবস্ত থাকত। আর অতি গোপনে এসব দৃশ্য বিশেষ টেকনোজির মাধ্যমে ধারণ করতেন পরী সিন্ডিকেটের সদস্যরা।

ব্ল্যাকমেইলিং পরবর্তীতে চলত। মোটা অঙ্কের টাকা দফায় দফায় হাতিয়ে নেওয়া হতো। তাদের মাধ্যমে তদবির করে তারা অনেককে পাইয়ে দিত বড় বড় কাজের কন্ট্রাক্ট। সামাজিক মর্যাদার ভয়ে ভুক্তভোগীরা মুখ খোলার সাহস করতেন না। অসহায়ের মতো তাদের আবদারের বাইরে যেতে পারতেন না তারা।

গ্রেপ্তার চিত্রনায়িকা পরীর বেশিরভাগ পার্টির আয়োজনের দায়িত্বে থাকতেন নজরুল ইসলাম রাজ এবং তার কথিত মামা দিপু। আর পরীর সঙ্গে বিভিন্ন প্রভাবশালীর ট্যুরের আয়োজন করতেন গতকাল সন্ধ্যায় আটক চয়নিকা চৌধুরী।

পুলিশের সূত্র আরও বলছে, প্রভাবশালী অনেক ব্যক্তির সঙ্গে ব্যক্তিগত সম্পর্কের কারণে ধরাকে সরা জ্ঞান করতেন পরী এবং রাজ সিন্ডিকেট। পুলিশের অনেক কর্মকর্তাও তাদের ভয়ে রীতিমতো তটস্থ থাকতেন। বোট ক্লাবের ঘটনার পর পরী তার বাসায় সংবাদ সম্মেলন এবং পরবর্তী সময়েও রাজ ঔদ্ধত্য আচরণ করেন পুলিশ ও গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে।

পরীকে গ্রেফতারের পর রাজের বাসায় অভিযানের সময়ও রাজ একজন শীর্ষনেতাকে দফায় দফায় ফোন করেন। তবে ওই নেতা তার ফোন রিসিভ করেননি। হতাশ হয়ে পড়েন রাজ। পরবর্তীতে র‍্যাব এবং ডিবির কাছে জিজ্ঞাসাবাদে ওইসব নেতার সম্পর্কে বিষোদগার করেন। তবে নিজেদের অপকর্মের বিষয়ে এখনো মুখ না খুললেও দ্রুতই তারা মুখ খুলতে বাধ্য হবেন বলে আশা প্রকাশ করেছেন তদন্ত-সংশ্লিষ্টরা।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের যুগ্ম কমিশনার হারুন অর রশীদ গতকাল দুপুরে বলেন, ‘পরীমণির মামলাটি আমরা তদন্ত করছি। পাশাপাশি আমরা তাকে আরও কয়েকটি বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছি। আমাদের কাছে তথ্য রয়েছে, পরীমণি অন্ধকার জগতে পা দিয়েছেন। এ পথে আসতে এক নারী তাকে সহযোগিতা করেছেন। সেই নারীকে আমরা খুঁজছি। তার বিষয়ে নজরদারিও করছি।’

যুগ্ম কমিশনার হারুন অর রশিদ বলেন, ‘ঢাকা বোট ক্লাবে পরীমণির সঙ্গে জিমি নামের এক তরুণ গিয়েছিলেন। তার বিষয়ে আমরা খোঁজ-খবর নিচ্ছি। আশা করি, দ্রুত সবাইকে আমরা আইনের আওতায় আনতে পারব।

সেই নারীর নাম জানতে চাইলে ডিবির এই কর্মকর্তা বলেন, আমরা এই মুহূর্তে নামটি বলতে চাচ্ছি না। পরীমণির বাসায় মদ পাওয়া প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। পরে বিস্তারিত জানানো হবে।’

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Contact Us